top of page
  • Writer's picturemonoranjan das

Bengali Poem Rather Mela

রথযাত্রা 

মনোরঞ্জন দাস 


বাংলার বাঙালিদের নিকট পবিত্র  যাত্রা ,


আষাঢ়ের  বাদল দিনের জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। 


পুরীর সাগরের পাড়ে শুরু হয়ে যায় তোলপাড় ,


দেওয়া হয় না কোন  কিছুতেই ছাড়। 


পুরীর পাণ্ডাদের নিঃশ্বাস ফেলার নেই সময় ,


এই তো এসেছে মানব জীবনের সু -সময়। 


মহাপ্রভুর ভক্তদের শুরু হয়ে যায় আনাগোনা ,


তাঁর প্রতি ভালোবাসার চায়না কোনো বাহানা। 


দাদা বলরাম ও বোন শুভদ্রাকে সঙ্গে করে ,


মহাপ্রভু স্বয়ং এলেন পৃথিবীর পরে। 


অপরূপ রূপ তাঁর কল্পনার অতীত ,


তাঁকে মানব জীবন ব্যতীত। 


ভালোবাসার মূল মেরুদন্ড একমাত্র তিনি ,


দ্বাপর যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ অবতার যিনি। 


মানব মিছিলে ভরপুর পুরীর সমুদ্রতট ,


যেন কোনো চিত্র শিল্পীর চিত্রপট। 


রথের দিনের পুরীর অপরূপ শোভা মনকে করে শান্ত ,


মানব জীবনের টানাপোড়েনে বর্তমানে প্রত্যেকেই অতি ক্লান্ত। 


পুরীর মন্দিরে রাজা দেন নিজহাতে ঝাড়ু ,


নারকেল দিয়ে মায়েরা বানান প্রভুর জন্য নারকেল নাড়ু। 


অজস্র দাবদাহের মধ্যেও পাণ্ডারা হার মানেন না ,


কি অপূর্ব স্বাদ মহাপ্রভুর সেবায় তা যে কেউ জানেন না। 


দিদিমার মুখে শুনেছিলাম রথের দিনের গল্প ,


এখন মনে হয় তা ছিল খুবই সামান্য ,অতি অল্প।  


পিসিমার বাড়ি ,মাসিমার বাড়ি ঘোরেন তিনি আনন্দে ,


পেটপুরে প্রসাদ খান ,থাকেন নিত্য আনন্দে। 


ধনী থেকে গরীব সকলেই থাকে মগ্ন ,


সকলের নিকট তিনি হলেন অমূল্য নীল রত্ন। 


মানব সমুদ্রের ঢেউ এদিক থেকে ওদিকে যায় ,


কারো সঙ্গে বাবা-মা ,কারো সঙ্গে ছোট্ট ভাই। 


কেউ ডাকে প্রাণ ভরে মন্দিরে গিয়ে ,


কেউ ডাকে বাড়িতে বসে পবিত্র মন দিয়ে। 



পুরীর জন সমুদ্রে হারিয়ে যায় মানব -দুঃখের কাহিনী ,


জনগনের সুরক্ষায় নিযুত রয়েছে ওড়িষ্যা তথা ভারতের সেনা -বাহিনী। 


একই সাথে চলতে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই মেলা ,


তার মধ্যে অন্যতম রানিগঞ্জের রাজবাড়ীর রথের মেলা। 


বহু লোকের সমাগম হয় এই রথের মেলাতে ,


সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় ,ভিড় হয় সন্ধ্যাবেলাতে। 


মনের আশা পূর্ণ হবে মহাপ্রভুর আশীর্বাদে ,


মেলা দেখা সফল হবে মেলা কমিটির সুবাদে। 


মেলা মানেই বহু লোকের সমাগম ,


জাত -পাতের ধার ধারে না ,মেলা মানেই সঙ্গম। 


বিভিন্ন রকমের খাবারের দোকান ,ভিড়েতে ঠেসাঠেসি ,


কেউ খায় কম করে , কেউ বা ঢের বেশি। 


শিশুদের ক্রন্দন কানে আসে যেমন ,


বড়োরাও দর কষাকষি শুরু করেছে তেমন। 


চুড়ি ,ফিতে ,মনোহারির দোকানে দেখা  না কিছু ,


নারীদের ভিড় লেগে রয়েছে তারি পিছু পিছু। 


বেলুন আর বাঁশির শব্দে কান যে ঝালা পালা ,


ওদিকে মদনের কাঁধে চেপে মেলা দেখছে তার ছোটো শালা। 


বউয়ের হাত ধরে হেঁটে চলেছে ওপাড়ার রামুকাকা ,


গরুগাড়ির উপরে বসে  গাড়োয়ান খাচ্ছে কাঁঠাল পাকা। 


দেবাশীষের অতি প্রিয় গরম গরম জিলিপি ,


রথের নিকটে গিয়ে ভক্তি ভরে প্রণাম করছে যে লিপি। 


দিপালীর বাবার সেই এক কাপ চা আর দুটো সিঙ্গাড়া ,


রথের কারণে আজ তোলপাড় গ্রাম -বাংলার সকল পাড়া। 


বাচ্চা থেকে বুড়ো কেউ কম যায় না ,


মেলাতে যাওয়ার খোঁজে নানান বাহানা। 


সমরের দাদুর স্বভাব গেলো না বদলানো ,


দিদিমাকে নিয়ে সেই নাগর দোলনায় চড়ানো। 


গরমের অত্যাচারের পরে এই মহা মিলনের মেলা ,


বর্ষার বৃষ্টির জলেও  তাই মেলা যায় সকলে দুইবেলা। 


রানিগঞ্জের এই মেলা বিখ্যাত কালোহীরার মতো ,


এখানকার কয়লা পূর্বে ইংল্যান্ডে রপ্তানি হতো। 


মাটির পুতুল ,বাঁশের ঝুড়ি ,ধামা ,কুলো ,


সবকিছু  ভরে যায় উড়ে পায়ের ধূলো। 


কেউ হাতে নিয়ে ঘুগনির গরম প্লেট ,


মালতীর হাতে তার নতুন বই -স্লেট। 


কেউ কিনেছে ঘর সাজানোর নানান রকমারি জিনিস ,


রাজুর মা তাকে বলেছে একটি লক্ষ্মী প্রতিমা আনিস। 


পাড়ার ছেলেরা ওই বুঝি কেউ কেউ ফিরে এল ,


তাড়াহুড়োতে  মুনমুনের মাটির কলসিটা ভেঙে গেল।     


রাত্রি যত বাড়ে মেলা জমে ওঠে ,


গোপাল ফেরেনি বাড়ি ,তার মা চিন্তায় অস্থির হয়ে ওঠে। 


আলোর ঝর্ণায় চারিদিক ঝলমল ,


রথের উপরে বসে আছে চঞ্চল ও শ্যামল। 


ফুচকার দোকানেও লম্বা লাইন ,


ট্রাফিক সিগন্যাল ভেঙে কতো দিয়েছে ফাইন। 


দুঃখের জীবনে সুখের স্থায়িত্ব অতি অল্প ,


বাংলার রথের মেলার নেই কোনো বিকল্প। 


........................................


Please comment, share, and follow me. Thanks for supporting me.  


4 views0 comments

Recent Posts

See All

My Pets

মিঠাই রাণী মনোরঞ্জন দাস মিঠাই রাণী , মিঠাই রাণী , কোথায় তুমি আছো ? আমি আছি তিমায়ের কাছে। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কতো তুমি ভালো। আমি ভালো তোমার মতো , তুমি যেমন ভালো। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কোথায়

Raas Purnima

রাস পূর্ণিমা মনোরঞ্জন দাস আজ রাস পূর্ণিমা , খুব সুন্দর সাজে সেজেছে চন্দ্রীমা। অপরূপ রূপের অধিকারী , তার তুলনা একটু না হয় করি। গতকাল আমি অনেক ভেবেছি , একবার এটা তো একবার ওটা করেছি। আসলে জীবনে আমরা যা

Bengal Tiger

দাদা মনোরঞ্জন দাস বাংলার দাদার প্রথম পায়ের ছোঁয়া পেয়েছিল , কলকাতার বেহালা ,সেখানেই তার জন্ম হয়েছিল। ৮ই জুলাই ১৯৭২ সালে তার জন্ম হয়েছিল , মাতা নিরূপা গাঙ্গুলীর কোল আলো করেছিল। পিতা চন্ডীদাস গাঙ্গুল

Comments


bottom of page