top of page
  • Writer's picturemonoranjan das

Durga Panchamir Haat (Bengali Poem)



পঞ্চমীর হাট

মনোরঞ্জন দাস


জীবন এক আশ্চর্য কাহিনী ,

যতই পাও ,তাও বলে পায়নি।

দিলেও বলে দেয়নি ,

খেলেও বলে খায়নি।

এভাবেই কেটে যায় প্রতিদিন ,

কেউ কেঁদে মরে , কেউ নাচে তা তা ধিন ধিন।

ধনীদের পৌষমাস ,

গরিবের চিরদিন সর্বনাশ।

বাংলার বুকে হয়ে চলে ,

বারো মাসেই ঋতু পরিবর্তন ছলেবলে।

গ্রীষ্মে কেউ থাকে শীতল কক্ষে ,

কারো হয় না সূর্যের প্রখর তাপ থেকে রক্ষে।

এই সবকিছুর মধ্যেই আসে,

পূজার সুগন্ধ আকাশে - বাতাসে।

ধরণীর বুকে ফোটে শুভ্র কাশফুল ,

বাতাসে ওড়ে মায়ের কালো চুল।

গ্রামের মানুষ ঘরে ফেরে ,

পূজার প্যান্ডেলে চারদিন গল্প করে।

ঢাকের শব্দে মেতে ওঠে পল্লী থেকে নগর ,

ফোটে নানান ফুল গোলাপ ,পদ্ম ,শিউলি -টগর।

আজ তাই ছোট্ট ঝিমলি এসেছে হাটে ,

কিনবে নতুন পোশাক সে গৌরান্ডী হাটে।

চাই তার লাল ফিতে , লাল জুতো পায়ে,

মানাবে অপূর্ব লাল জামাটি তার ফর্সা গায়ে।

আজ এমনিতেই হাটের দিন ,

এ বলছে ইটা কিন্ , ও বলছে ওটা দিন।

চিৎকার চেঁচামেচিতে হাট হয়েছে রঙিন ,

চলবে এভাবেই আজকের হাট সারাদিন।

সব্জির দাম আজ আকাশে চড়েছে ,

ফলের দাম কি তাই বলে , একটুও কমেছে।

কেউ কিনছে তাঁতের শাড়ি ,

কেউবা মাটির প্রদীপ,কলসি -হাঁড়ি।

প্রতিটি দোকানে ভিড়ে ঠাসাঠাসি ,

নেমেছে পূজার ফুল-ফল রাশিরাশি।

দশকর্মার দোকানে যায় না দেখা কিছু ,

রতন,মানিক ,নেপলা ,পচা দাঁড়িয়ে আছে পিছুপিছু।

সেই কোন সকালে মিতালি এসেছে দোকানে ,

নেবে কিছু সাজবার গয়না এখানে।

মা বলেছে সাবধান হাটে বড় ঠেলাঠেলি ,

সাবধানতার মার্ নেই এটাই বলি।

ধামা ,ঝুড়ি ,কুলো নিয়ে এসেছে নিতাই ,

সব বেচে তারপর বাড়ি যাই।

সারাদিনের চিৎকার , ভ্যাপসা গরমে ,

গলা শুকিয়ে যায় , কথা যায় থেমে।

এদিকে মুখার্জি কাকু সাইকেলে চড়ে ,

গরম জিলিপি খাচ্ছে মুখ নেড়ে নেড়ে।

রমেশ রায়ের মনে নেই আজ কোনো শান্তি ,

হাটে বেরোনোর সময় গিন্নির সাথে অশান্তি।

বয়স হয়েছে বেজায় ,

বোঝেনা সেটা দু জনায়।

মনের মিলের অভাব সেই ,

বিয়ের দিন থেকেই।

বাবা-মায়ের পছন্দের সুন্দরী বৌ ,

এখন যেন মনে হচ্ছে , মৌচাকের মৌ।

দিলীপের বৌ এ বছরেও বাপের বাড়িতে ,

পাঠিয়ে দিয়েছে ভোরে ভাড়ার গাড়িতে।

এবারেও সেই একই ঝামেলা কম শাড়ির জন্য ,

মোটেই একান্নটা শাড়ি , দিলীপ ও ধন্য।

তাই সে হাটে এখন শাড়ির দোকানে।

বউয়ের সাথে চলেছে তর্ক মুঠো ফোনে,

এদিকে মিলন নিয়ে এসেছে দীপালির বোনকে।

খাওয়াবে গরম জিলিপি ও ছানার পোলাও তাকে।

বেশ গল্প জমিয়েছে রত্না আর বিমল ,

প্রেমের নৌকোয় দুজনেই টলমল।

একজন অন্যজনকে ভীষণ ভালোবাসে ,

দুজনেই স্বপ্ন দেখে মাথা রেখে কোলবালিশে।

ওদিকে মোড়ের মাথায় গরম চপ নিয়ে কাড়াকাড়ি ,

কে খাবে কতগুলি এই নিয়ে হুড়োহুড়ি।

এদিকে বসন্তের কাছে ,

একজোড়া ছেঁড়া জুতো নিয়ে রিতাকাকিমা দাঁড়িয়ে আছে।

দর কষাকষি চলেছে পুরোদমে ,

কিভাবে সেলাই করা যায় কমদামে।

জুতো জোড়ার বয়স কম নয় ,

কম করে বছর পনেরো বোধ হয়।

রাজেশের বউয়ের আশ্চর্য বায়না,

চাই তার শাঁখা ,শাড়ি ,আলতা ,সিঁদুর চিরুনি - আয়না।

দিন আনে দিন খায়,

এত সব সে কিকরে পায়।

বউয়ের জ্বালাতনে রাজু হাটেই আসে না ,

এলেই তার অজস্র বায়না।

তার বায়না মেটাতে ,

রাজুকে খাটতে হয় বারোমাস অন্যের বাড়িতে।

কারো হাতে নারকেল ,

কারো হাতে আপেল।

বেলা গড়িয়ে এল সন্ধ্যার কোলে ,

হাটের লোকেরা সকলে বাড়ি ফিরে চলে।

আবার ফিরবে সকলে পরের হাটে ,

নতুন নতুন কান্ড প্রতিবারেই ঘটে।


https://monoranjantalks.blogspot.com/2021/10/blog-post_6.html


সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে সহযোগিতার করার জন্য।

আপনারা আমার কবিতাগুলো পড়ুন ও ছোট গল্প পড়ুন। আপনাদের মূল্যবান মতামত জানিয়ে আমাকে আরো বেশি স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করুন।

















2 views0 comments

Recent Posts

See All

My Pets

মিঠাই রাণী মনোরঞ্জন দাস মিঠাই রাণী , মিঠাই রাণী , কোথায় তুমি আছো ? আমি আছি তিমায়ের কাছে। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কতো তুমি ভালো। আমি ভালো তোমার মতো , তুমি যেমন ভালো। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কোথায়

Raas Purnima

রাস পূর্ণিমা মনোরঞ্জন দাস আজ রাস পূর্ণিমা , খুব সুন্দর সাজে সেজেছে চন্দ্রীমা। অপরূপ রূপের অধিকারী , তার তুলনা একটু না হয় করি। গতকাল আমি অনেক ভেবেছি , একবার এটা তো একবার ওটা করেছি। আসলে জীবনে আমরা যা

Bengal Tiger

দাদা মনোরঞ্জন দাস বাংলার দাদার প্রথম পায়ের ছোঁয়া পেয়েছিল , কলকাতার বেহালা ,সেখানেই তার জন্ম হয়েছিল। ৮ই জুলাই ১৯৭২ সালে তার জন্ম হয়েছিল , মাতা নিরূপা গাঙ্গুলীর কোল আলো করেছিল। পিতা চন্ডীদাস গাঙ্গুল

コメント


bottom of page