top of page
  • Writer's picturemonoranjan das

Invitation of Villagers

গ্রাম বাংলার নেমন্তন্ন মনোরঞ্জন দাস

রতন কাকার গরুর গাড়ি চড়ে ,

যাব আমি নড়ে নড়ে।

গরুর গাড়ির সেই ক্যাঁচর ক্যাঁচর শব্দ ভালো লাগে ,

রিনা দিদির ওই হাঁস গুলির কোলাহল ভালো লাগে।

চষা মাটির গন্ধ মনকে ভরিয়ে তোলে ,

চাষিরা লাঙল কাঁধে ধানের ক্ষেতে চলে।








ওই যে ওদিকে মেয়েরা দল বেঁধে নাইতে যায় ,

কাজের মেয়েরা গান গাইতে গাইতে যায়।

কুমোর পাড়ায় কলসি ,হাঁড়ি বানায় ,

সকাল বেলায় গান ধরে ওই বাউল কানাই।

মাটি দিয়ে বানায় তারা নিজেদের ঘর ,

সকলে মিলে থাকে ,কেউ নয় পর।

গরুর গোবর হাতে করে ঘুঁটে দেয় মাটির দেওয়ালে ,

ও পাড়ার ছেলেদের দল সাঁতার কাটে বড় দীঘির জলে।



রমলা যায় লাল পাড় শাড়ি পরে ,

পূজার থালা ,ফুলের সাজি হাতে করে।

পূজারী আসবে এখনি গ্রামের মন্দিরে ,

রমলা বসলো তাই মন্দিরের ভিতরে।

ওই যে আসে চম্পা ও শ্যামলী ,

কানে কানে কিছু কথা করে বলাবলি।

তারপরে কনকলতা আসে তাড়াতাড়ি ,

পায়ের নূপুরে তার জড়িয়ে যায় নতুন শাড়ি।

এত দেরি করে কেন ঠাকুর মশাই ,

করতে হবে নিরামিষ রান্না ,সব্জি তো নাই।

গতকাল মিলন যায়নি হাটে ,

পা কাটিয়েছে গোয়াল ঘরের কপাটে।

মিলন তাই গিয়েছে পাশের গ্রামে ,

যদি কিছু সব্জি পাওয়া যায় কম দামে।

বাড়িতে খাওয়ানো হবে বেশকিছু লোকজন ,

কুমড়ো চাই ,বেগুন চাই ,আলু চাই তিনমণ।



পাঁপড় ভাজতে হবে সবার শেষে ,

বলেছে বংশী রাঁধুনী ঠাকুর আলতো হেসে।

মিষ্টি আনতে হবে হারাধন ময়রার দোকানে ,

মিলনের ভাই সুমন হাঁড়ি কিনে আনে।

ময়দা মাখাতে হবে লুচির জন্য ,

তৈরী হয়েছে তাই ছোটো ভাই অনন্য।

কলা পাতা চাই বলেছে রমলা ,

মন্দিরে পূজা শেষ হলে আনবে পূজার থালা।

অবশেষে নয়ন ঠাকুর এসেছে মন্দিরে ,

পূজা শেষ হলে রমলা ফিরবে ঘরে।

রমলা রেখেছিল মানত মায়ের মন্দিরে ,

এবছর ফসল ভালো হলে ,লোকজন খাওয়াব প্রাণ ভরে।

মিলন এসেছে ঘরে ,খুঁজছে রমলাকে ,

ওদিকে বংশী রাঁধুনী নস্যি নিয়েছে নাকে।

পূজার প্রসাদ রমলা দেয় সকলকে ,

চুপিচুপি কিছু কথা মিলন -রমলা বলে নেয় ওই ফাঁকে।

রান্নার আয়োজনে সকলে মিলিয়েছে হাত ,

ময়দা মাখাতে গিয়ে অনন্য কুপোকাত।

দই আনতে ভুলে গেছে রমলার দাদা ,

বকাবকি করছে তাই বৌদি সারদা।

রান্না শেষ হতে হয়েছে একটু দেরি ,

তাই বলে কি খিদের জ্বালা আর সইতে পারি।

মাটিতে আসন পেতে বসেছে সকলে ,

এবার তো খেতে দাও কেউ কেউ বলে।

কলা পাতা জলে ধুয়ে এনেছে নিমাই ,

পাতে বসে বলে কইরে লুচি কোথায় ?

প্রথমে গরম বেগুনি দিয়ে যায় পাতে ,

তারপরে লুচি নিয়ে আসে পেতলের গামলাতে।

আলু -কুমড়োর সব্জি আনে পলাশকাকা ,

অড়হরের ডাল আসছে নিয়ে শালপাতা ঢাকা।

পটলের তরকারী আসে পিছু পিছু ,

এখনি যাওনা উঠে আরো আছে অনেক কিছু।



তারপরে পায়েস আসে মলয়ের হাত ধরে ,

শিবু দাদু বলে এবার পায়েস খাব একটু বস না সরে।

দই দই যেই বলে পাড়ার সনাতন জ্যাঠা ,

সকলে এমন করে মনে হয় লেগে গেল ল্যাঠা।

মিষ্টি নিয়ে আসে যেই নিচে পাড়ার ভোলা ,

রাধা ঠাম্মা বলে ওঠে ভরে গেছে পেট থেকে গলা।

এরপরে পাঁপড়ের গন্ধে সারা উঠোন মোহ মোহ করে ,

বংশী রাঁধুনী ঠাকুরের রান্না খেয়ে সবাই ধন্য ধন্য করে।

সকলে বিদায় বেলায় মিলন -রমলা আশীর্বাদ করে ,

যেন এভাবেই তোমাদের সংসার চিরদিন থাকে ভরে।

গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষ নির্মল মনের হয় ,

ঈশ্বরের কৃপা তাই যেন আমাদের বাংলার উপরে রয়।

---------------********----------------

Thanks for supporting me. Please comment below in the comment box, share this poem, also follow me.



https://monoranjantalks.blogspot.com/2023/05/ghurnijhor-moka-or-mokha-by-monoranjan.html


https://monoranjantalks.blogspot.com/2023/05/bengali-poem-kancha-aam-by-monoranjan.html

https://monoranjantalks.blogspot.com/2023/05/little-story-radharani-by-monoranjan-das.html

10 views0 comments

Recent Posts

See All

My Pets

মিঠাই রাণী মনোরঞ্জন দাস মিঠাই রাণী , মিঠাই রাণী , কোথায় তুমি আছো ? আমি আছি তিমায়ের কাছে। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কতো তুমি ভালো। আমি ভালো তোমার মতো , তুমি যেমন ভালো। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কোথায়

Raas Purnima

রাস পূর্ণিমা মনোরঞ্জন দাস আজ রাস পূর্ণিমা , খুব সুন্দর সাজে সেজেছে চন্দ্রীমা। অপরূপ রূপের অধিকারী , তার তুলনা একটু না হয় করি। গতকাল আমি অনেক ভেবেছি , একবার এটা তো একবার ওটা করেছি। আসলে জীবনে আমরা যা

Bengal Tiger

দাদা মনোরঞ্জন দাস বাংলার দাদার প্রথম পায়ের ছোঁয়া পেয়েছিল , কলকাতার বেহালা ,সেখানেই তার জন্ম হয়েছিল। ৮ই জুলাই ১৯৭২ সালে তার জন্ম হয়েছিল , মাতা নিরূপা গাঙ্গুলীর কোল আলো করেছিল। পিতা চন্ডীদাস গাঙ্গুল

Comments


bottom of page