top of page
  • Writer's picturemonoranjan das

Raas Purnima

রাস পূর্ণিমা

মনোরঞ্জন দাস


আজ রাস পূর্ণিমা ,

খুব সুন্দর সাজে সেজেছে চন্দ্রীমা।

অপরূপ রূপের অধিকারী ,

তার তুলনা একটু না হয় করি।

গতকাল আমি অনেক ভেবেছি ,

একবার এটা তো একবার ওটা করেছি।

আসলে জীবনে আমরা যা ভাবি ,

মন বলে তা আর কোথায় পাবি ?

একদিন শান্তি নিকেতনে ,

হঠাৎ উপস্থিত হয় আমার সামনে।



অন্ধকার রাত ছিল ,

স্যাঁত স্যাঁতে ভেজা মাটি ছিল।

ঝমঝম বৃষ্টি আর শন শন বাতাসের যেন ,

তাল মিলিয়ে সাংস্কৃতিক মেল্ বন্ধন চলিছে হেন্।

অফিস থেকে একটু দেরি করে বেরিয়েছিলাম ,

রেস্তোরাঁয় কিছুটা সময় কাটিয়েছিলাম।

শরীরে কেমন যেন একটা অস্স্বত্বি ছিল সেদিন ,

এদিকে আকাশে বিদ্যুৎ শুরু করেছিল তাক-ধিনা -ধিন।

আমি একটু অবিশ্বাসের হাত ধরে বেরিয়ে পড়লাম ,

মনের মধ্যে প্রশ্নের মালা গাঁথা শুরু করেছিলাম।

কারণটা ছিল কাজ নিয়ে ,

করব কি করব না ,কী বলব বাড়ি গিয়ে।

এদিকে মায়ের শরীর খুব একটা ভালো যাচ্ছে না ,

অনেকেই এই দুর্মূল্যের বাজারে কাজ পাচ্ছে না।

কিভাবে চালাব সংসার ?

ভেবেই চিন্তা হচ্ছে আমার।

ঠিক যা ভেবেছিলাম তাই হল ,

প্রতীক্ষালয়ে এসে দেখি ,আমার আসতে খানিকটা দেরি হল।



আর তো কোনো উপায় নেই এখন ,

অগত্যা পা বাড়িয়ে দিলাম তখন।

একসঙ্গে এতগুলো সমস্যা এল আজকের দিনে ,

ভেবেছিলাম কিছু ফল ও ওষুধ নিয়ে যাব কিনে।

জানিনা উপরে যিনি বসে আছেন ,কী চান ?

অগত্যা তাকেই আমরা বলে থাকি, বাঁচান।

পথের ধারে কিছুটা যেতেই মেঘের শুরু হল কান্না ,

অফিসে রাজশ্রী বলেছিলেন এত চিন্তা করবেন না।

এখন মনে হচ্ছে সেটাই সঠিক ছিল ,

তখন একেবারে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছিল।

কোনো রকমে একটা ভেঙে পড়া মন্দিরে এসে আশ্রয় নিলাম ,

মাকে মনের কথাগুলো নিবেদন করলাম।

চতুর্দিক অন্ধকার তার মধ্যে একজনের আবির্ভাব ,

আমার এমনিতেই একটু কৌতূহলী স্বভাব।

আপনি কে ? অমাবস্যা নাকি পূর্ণিমা ,

মৃদু স্বরে উত্তর দিলেন ,আমি চন্দ্রীমা।

সেই দুর্যোগের দিনটিই ছিল আমার জীবনের নতুন মোড় ,

যে দিনটির জন্য মা প্রায় করত তোড়জোড়।

অন্ধকারে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না ,

বিদ্যুতের দয়ায় মুখখানি দেখতে একবার পাচ্ছি একবার পাচ্ছি না।

এই বৃষ্টির মধ্যে আপনি এলেন কোথা থেকে ?

একটু সময় দিন বলছি আপনাকে।

না ,মানে এই দুর্যোগের রাতে এক নারীর -----

আরে ,আমি এসেছিলাম একটা দরকারি কাজের -----

মানে আমার চাকুরীর প্রয়োজনে এসেছিলাম ,

ব্যাংকের ম্যানেজারের পদের খোঁজ পেয়েছিলাম।

তা খোঁজ পেলেন অবশেষে ,

হ্যাঁ , কিন্তু আবার একদিন আসতে হবে পরের মাসে।

কোথায় ,কোন ব্যাংকে পেয়েছেন ?

আপনি কী এখানকার সব ব্যাংক দেখেছেন ?

তা ছাড়ুন আপনার পরিচয় তো পেলাম না ,

আকাশ নামে সকলে চেনে , বুঝলেন চন্দ্রীমা।

এই বর্ষার রাতে বাড়ি ফিরবেন কিভাবে ?

আপনি ফিরবেন যেভাবে।




আমার বাড়ি তো বহুদূরে ,কুসুমপুর।

আরে আমার বাড়ি আপনার পাশের গ্রামে ,শ্যামসুন্দর পুর।

সে যাই হোক বৃষ্টি মনে হয় থামবে না,

আপনি কী যাবেন না ,যাবেন না।

চন্দ্রীমা বললেন চলুন ভিজেই যাওয়া যাক ,

তাছাড়া তো উপায় নেই যে বলব থাক।

দুজনে কিছুদূর যেতেই একটা আলো আমাদের উপর পড়ল ,

উঠে আসুন ,আর কত ভিজবেন ,কে যেন চেনা মনে হল।

দেখলাম নিজে ভিজলেও হতো ,সঙ্গে একজন আছেন ,

গাড়িতে উঠে দেখি ,রাজশ্রী চালকের ভূমিকায় রয়েছেন।

চিন্তা নেই বাড়ি অবধি পৌঁছে দেব ,

কিন্তু ,সঙ্গে আপনার কে ?

উনি হলেন চন্দ্রিমা দেবী , পাশের গ্রামে থাকেন ,

ঘন্টা তিনেক পরে গাড়ি আমাদের বাড়ির সামনে থামে।

তারপর রাজশ্রী সেদিন চলে যান ,বললেন নেই সময় ,

আর ওই দিনই প্রথম মায়ের সাথে চন্দ্রিমার পরিচয়।

মা তো দেখেই বুকে জড়িয়ে ধরে ,

বলে আজ লক্ষ্মী এসেছে ঘরে।

ওরে হতভাগা খবর দিয়ে আনতে পারলি না ,

আমাকে বলার সুযোগই দিল না।

ওদিকে চন্দ্রিমাও মাকে যেন মেনে নিয়েছে ,

তাই মায়ের আবদার গুলো শুনছে।

মায়ের বিয়ের গোলাপী বেনারসী পরে ,

খোলা চুলে ,মায়ের বিয়ের গয়না পরে ,

অপরূপ সাজে সজ্জিত চন্দ্রীমা আমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে ,

আমি তো দেখেই আত্মহারা ,যেন যায় জ্ঞান হারিয়ে।

আমার কিছু বলার আগেই মা বলে ,

আজ রাস -পূর্ণিমা ,আজ আমার আঙিনাতে চাঁদ এসেছে চলে।

ঈশ্বর আজ আমার মনের বাসনা পূর্ণ করেছে,

তুই শীঘ্র পোশাক বদলে আয় ,দেরি হচ্ছে।



আজকের শুভদিনে তোদের দুজনকে আশীর্বাদ করি ,

তারপরে ঈশ্বরের নাম গান ধরি।

এই বলে মা চলে যায় নিজের ঘরে ,

আমি ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গিয়ে যায় আমার ঘরে।

নিজের মনের মধ্যে শুরু হয় পুনরায় চিন্তা ,

চন্দ্রীমা কি ভাববে ,

ও কি মেনে নেবে।

নানা চিন্তা-ভাবনা করতে করতে এসে দেখি ,

মায়ের কোলে মাথা রেখে চন্দ্রিমা মাটিতে বসে ,একি !

কিছু না ভেবেই আমি সত্যিটা বলতে থাকি মা কে ,

সবকিছু শোনার পর মা বলে ,আমি মেনে নিয়েছি আমার বৌমাকে।

আমি শেষে চন্দ্রীমাকে জিজ্ঞাসা করলাম ,

তোমার মতামত কি ? বলতে বললাম।

চন্দ্রীমা শিশুদের মতো নির্মল উত্তর দিল ,

মায়ের সাথে আমি একমত , বলে দিল।

কিন্তু তোমার বাবা-মা ,বাড়ির লোক কি বলবে ,

আমি যা বলব তাই ওরা মেনে নেবে।

অবশেষে এক বৎসর পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল চন্দ্রীমা ,

আজ সেই আবার ফিরে এল রাস -পূর্ণিমা।




------------******-----------

Thanks for supporting me. Please comment share and follow me.




0 views0 comments

Recent Posts

See All

RMS Titanic

Titanic Monoranjan Das The biggest and most gorgeous ship, In the whole world. By the Britain Government, Started in the nineteenth century. They wanted to discover, A historical biggest and most spe

Shyam Rai

মনের মিল মনোরঞ্জন দাস তোমার সাথে আমার মনের থাকে যদি মিল , কোনোদিনই তুমি ভুল করে দিও না মনের দরজায় খিল। মনের মানুষ খুঁজে পাওয়া এই জগতে কঠিন , মনের পেলে তুমি সারা জীবন স্বাধীন। মনের কথা জানতে হলে মন-ম

About Marrige

পাকা দেখা মনোরঞ্জন দাস গৌরাঙ্গ কেমন আছো তুমি , খুব ভালো আছি আমি। তা আজ হঠাৎ আমাদের পাড়ায় , একটা বিশেষ কাজে ছুটছি এ পাড়ায় ও পাড়ায়। কেন কী এমন হল ভাই ? একটু আপনার সহযোগিতা চাই। বলুন না কী দরকার ? এসেছ

Komentarze


bottom of page