top of page
  • Writer's picturemonoranjan das

The Ganga

গঙ্গা নদী

মনোরঞ্জন দাস


পাটুলিতে গিয়ে প্রথম দেখেছিলাম তোমায় ,

তোমার ছোঁয়া পেয়েছিলাম সে বৎসর বন্যায়।

শত শত মানুষ গৃহহীন হয়েছিল ,

অনেকের বাসভূমির সলিল সমাধি ঘটেছিল।

কেউ হারিয়ে ছিল তার প্রিয়জনকে ,

আবার কেউ তার আত্মীয়স্বজনকে।

বহু মানুষ যাযাবরে পরিণত হয় ,

বহুজন অন্যত্র নব বাসিন্দা হয়।

আমি সে বৎসর প্রথম চাকুরীতে যোগদান করেছিলাম ,

পূর্বের দিন তারই প্রস্তুতি করেছিলাম।

সাথে সহযাত্রী ছিলেন মামা ও জামাইবাবু ,

পাটুলিতে সাহায্য করেন অমায়িক তপনবাবু।










তারপর রওনা দিলাম ভ্যান -রিক্সা করে,

দেখলাম প্রকৃতির রূপ প্রানভরে।

চারিদিকে সবুজে ভরা ধানের ক্ষেত ,

কোথাও আবার প্লাবিত শষ্যের ক্ষেত।

কোথাও আবার পাকা রাস্তার উপরে উঠেছে জল ,

নেই কোথাও বাকি ,চারিদিক শ্যামল।

রিক্সাওয়ালা মোদেরকে নামিয়ে দেয় গ্রামের মাথায় ,

এবার মোরা বিদ্যালয়ে কিভাবে যায়।

পথ যেন ভরে গেছে গঙ্গার কাদায় ,

বহু কষ্টে হাতে পায়ে কাদা মেখে বিদ্যালয়ে পৌঁছায়।

সেখানে গিয়ে পেলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ,

দেখে একটু অবাক হলাম রুগ্ন বিদ্যায়লয়টিকে।

অমায়িক ,অতি ভদ্রলোক রবীন্দ্রনাথ সরকার ,

ছিল বিভাস দা ও প্রণতিদির সু-ব্যবহার।

আলাপ চারিতার খানিক পরে আসেন গোবিন্দ হালদার ,

তিনি ছিলেন বাসিন্দা কালনার।

সেদিন অফিসে ফিরে আসি পরে ,

পাটুলিতে ছিলাম বেশ কয়েকদিন ধরে।

তারপরে রবি বাবু ও মামার মাধ্যমে ,

বাসাবাড়ী পেলাম ছাতনী গ্রামে।

সেখানে ছিলাম মোরা তিনজনে ,

গঙ্গা নদী প্লাবিত হয় আশ্বিনে।

নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত হয় ,

বৃষ্টি আর গঙ্গার ভয়ঙ্কর রূপ দেখে মানুষ পায় ভয়।


আমি ছিলাম বাসায় একা ,

উদয়দা,তপনদা বাড়ী যাওয়ায় বাসাবাড়ী ফাঁকা।

বজ্র -বিদ্যুৎ আর বৃষ্টির জন্য,

পথ-ঘাট হয়েছিল জঘন্য।

রবিবাবু বলেছিলেন কিছু খাবার জিনিস কিনে রাখুন,

এবার এলাকা বন্যায় প্লাবিত হবে ,একটু ভাবুন।

দেখতে দেখতে গঙ্গার জলে ভরে গেল চারিদিক ,

রবিবাবুর কথায় ঠিক হল ,ভেবেদেখলাম এদিক-ওদিক।

পাকা রাস্তার উপর কলার ভেলা ভাসে,

কেউবা অঝোরে কাঁদে আবার কেউ দেখছিলাম হাসে।

এদিকে বাড়ীর লোকের শুরু হয় কান্না ,

বলেছিল থাক চাকুরী ,এলে আর যেতে দেব না।

বৃষ্টিপাত মাথায় করে ,

জামাইবাবু ও মেজো মামা রওনা দেন ট্রেনে করে।


কাটোয়া পৌঁছে দেখেন জলে জলাময় ,

দুজনেই সবকিছু দেখে হন চিন্তাময়।

তারপরে ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা ,

একটা বছর তেরোর ছেলে প্লাবিত জলে সাঁতরে আসে একটানা।

বহরমপুরে তার দিদির বাড়ী থেকে ফিরছিল ,

দুদিন অনাহারে সে সাঁতার দিচ্ছিল।

তার সাথে পরিচয় হয় জামাইবাবু-মামার ,

যাব আমি নবদ্বীপ , সেথায় মা যে আছে আমার।

কলার ভেলায় চাপিয়ে সে ,

অগ্রদ্বীপে নিয়ে আসে।

সেখানে তাকে আহার করিয়ে ,

রওনা দেন রেলপথের উপর দিয়ে।

পথে সন্ধ্যা আসে নেমে ,

তাই পথ চলা যায় থেমে।


প্লাটফর্মে দুজনে রাত কাটায় ,

পরদিন আমার কাছে পৌঁছায়।

তারপর আমি প্রস্তুত হয়ে একসাথে রওনা দিলাম ,

আবার সেই রেলপথের উপর দিয়ে হাঁটলাম।

আমরা ছিলাম শূন্যে রেলের উপরে ,

নিচে এক একটি ছোট্টো ছেলে মাছ ধরে।

তরপর অগ্রদ্বীপে ভ্যান-রিক্সা করে ,

বাস ধরার জন্য যায় জলের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে।

বাসে চড়ে কাটোয়া ,

সেখানে হয় খাওয়া -দাওয়া।

তারপর রওনা দিলাম বাড়ীর উদ্দেশ্যে ,

এরকমই ছিল গঙ্গার প্রথম দৃশ্যে।

----------******---------

Thanks for supporting me. Please comment share and follow me.


https://monoranjantalks.blogspot.com/2023/07/bengali-poem-grisher-dupure.html

https://monoranjantalks.blogspot.com/2021/10/blog-post_65.html




2 views0 comments

Recent Posts

See All

My Pets

মিঠাই রাণী মনোরঞ্জন দাস মিঠাই রাণী , মিঠাই রাণী , কোথায় তুমি আছো ? আমি আছি তিমায়ের কাছে। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কতো তুমি ভালো। আমি ভালো তোমার মতো , তুমি যেমন ভালো। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কোথায়

Raas Purnima

রাস পূর্ণিমা মনোরঞ্জন দাস আজ রাস পূর্ণিমা , খুব সুন্দর সাজে সেজেছে চন্দ্রীমা। অপরূপ রূপের অধিকারী , তার তুলনা একটু না হয় করি। গতকাল আমি অনেক ভেবেছি , একবার এটা তো একবার ওটা করেছি। আসলে জীবনে আমরা যা

Bengal Tiger

দাদা মনোরঞ্জন দাস বাংলার দাদার প্রথম পায়ের ছোঁয়া পেয়েছিল , কলকাতার বেহালা ,সেখানেই তার জন্ম হয়েছিল। ৮ই জুলাই ১৯৭২ সালে তার জন্ম হয়েছিল , মাতা নিরূপা গাঙ্গুলীর কোল আলো করেছিল। পিতা চন্ডীদাস গাঙ্গুল

Comments


bottom of page