top of page
  • Writer's picturemonoranjan das

The Girl

রত্না মনোরঞ্জন দাস


অজস্র প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল ,

সেদিন রত্না একটু হলেও ভয় পেয়েছিল।

বাপের বাড়ি থেকে ফিরতে একটু দেরি হয়েছিল তার,

এতে কোনো দোষ ছিল না তার।

গত সোমবারে সে গিয়েছিল ,

পাশের বাড়ির দীপু এসেছিল।

বহু বাধা সত্ত্বেও তাকে যেতে হয়েছিল ,

যদিও শ্বশুর বাড়ির লোক অনিচ্ছুক ছিল।


এমনিতেই তার বিয়ে কেউই মেনে নেয়নি ,

কারন তার বাবা দেনা - পাওনা ঠিকমতো দিতে পারেনি।

দরিদ্র বাড়ির মেয়ে রত্না ঘোষাল ,

পিতা অসহায় দিনমজুর শ্যামলাল।

মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে ,

তবেই দুটো খাবার আসে তাদের ঘরে।

বাড়িতে থাকে তার সাত বছরের বোন সুপর্ণা ,

সে বাড়ির কাজ করে ,স্কুলে যায় না।


বিয়ের পূর্বে দুই বোনে একসাথে স্কুলে যেত ,

টিফিনে পান্তাভাত দুজনে খেত।

বাবার রোজগারে তাদের কোনোরকমে চলে যেত ,

বাড়ির মধ্যে শান্তির পরিবেশ দেখা যেত।

নিজেদের মধ্যে কারো কোনো অভিযোগ ছিল না ,

মনো -মালিন্য ছিল না।

সকলে নিজের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিত ,

সচ্ছল নাহলেও চলে যেত।



মাটির মানুষ তার বাবা-মা ,

যত নষ্টের গড়া তার পিসিমা।

জোর করে একটা ধনী পরিবারের ছেলের সাথে ,

বিয়ে দিয়েছিল নিজ হাতে।

সে জানতো বরের বাড়ির সবকিছু ,

অনেক বার অনুরোধ করেছিল শ্যামলাল তার পিছুপিছু।

তবু সে শোনেনি কোনো কথা ,

তার কারণেই যতো ক্লেশ ,বেদনা ও ব্যথা।


রত্নার বয়স তখন বারো ,

দাদা এবার তুমি ওর বিয়ে দিতে পারো।

নারে ও এখন নাবালিকা দেব না ,

ওর এখন পড়ার বয়স ,পড়ুক না।

এতো অল্প বয়সে বিয়ে দেব না গীতা ,

খুব ধনী পরিবার ,ভালো ছেলে নচিকেতা।

রাজরাণী হয়ে থাকবে ,

সকলেই খুববেশী ভালোবাসবে।


ওদের কলকাতার বড়োবাজারে সোনার দোকান ,

প্রত্যেকেই করে ওদের অতি সম্মান।

তুমি নিশ্চিন্তে দিতে পারো দাদা,রত্নার বিয়ে ,

নারায়ণের মতো বর পাবে ও করলে এই বিয়ে।

কোনো কাজ করতে হবে না নিজ হাতে ,

খাবে -যাবে ঘুরে বেড়াবে দিনে-রাতে।

লাল টুকটুকে বেনারসী পরে ,

ও যাবে ওই রাজপুত্তরের ঘরে।



রত্নার বাবা-মা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে কয়েকদিন ধরে ,

অবশেষে রাজি হয়ে যায় নিরুপায় হওয়ার পরে।

বরের বাড়ির লোক এসে রত্নাকে একবার দেখেই পছন্দ করে ,

ভেবেছিল অনেক কিছু দেবে দু -হাত ভরে।

তাই তারা দেনা -পাওনার কথা না বলেই রাজী হয়ে যায় ,

কিন্তু বিয়ের দিন তারা কিছুই দেখতে না পায়।

তাও ভেবেছিল হয়তো বিদায়ের সময় অবশ্যই দেবে ,

কিন্তু সেটাই বা কিকরে শ্যামলাল দেবে।


দেনা -পাওনার অভাবে কোণের ওই অন্ধকার ঘরটি তার কপালে জোটে ,

ভালোভাবে থাকতো যদি তার বাবা-মা ভরিয়ে দিত নোটে।

কিন্তু ,হায় পোড়া কপাল তার ,

গলাতেই শুকিয়ে গেল রজনীগন্ধার হার।

খাওয়া -দাওয়া জুটতো ঝি-চাকরদের সাথে ,

ক্ষমতা ছিল না কিছু নিয়ে খাবে নিজ হাতে।

গায়ের রঙ যে কালো হয়ে এলো ,

তাতেই বা নচিকেতার কী হলো।


মায়ের আঁচলের তলায় যে ছেলে লুকিয়ে থাকে ,

তার কী দরকার ছিল ঘোরা সাতপাকে।

মায়ের কথায় ওঠে বসে ,

মায়ের কথায় যায় আসে।

রত্নার মুখ দেখা দূরের কথা ,

বউয়ের নাম উচ্চারণ করারও নেই ক্ষমতা।

নিজের স্ত্রীর দায়িত্ব সে নেবে যেদিন ,

রত্নার জীবনে আলো আসবে সেদিন।


রবিবারে পাড়ার ছেলে দীপু এসেছিল ,

বাপের বাড়ির মুখ দেখেনি ,মাস ছয়েক হয়েছিল।

অনিচ্ছাকৃত অনুমতি দিয়েছিল তার শ্বাশুড়ী মা ,

ভেবেছিল গেলে আর আসবে না তাদের বৌমা।

কিন্তু যখন দেখে আবার এসেছে ফিরে ,

তুলকালাম কান্ড বেঁধে যায় তাকে ঘিরে।

তাই চা -জলের পরিবর্তে জুটেছিল অপমানের ফুলের তোড়া ,

এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের বর্ষা নাকি মড়ার উপর খাড়া।



অবশেষে তার শ্বশুরমশাই নেমে আসে উপর থেকে ,

জড়িয়ে ধরে সোনার প্রতিমাকে।

বলে ওঠে একটু নরম স্বরে ,

ওরে নচিকেতা লক্ষ্মীকে নিয়ে যা ঘরে।

তোর মায়ের তো চায় দেনা -পাওনা ,

তা দিয়ে দেব ,ওগুলোই হবে তোর মায়ের শান্তনা।

নিজের ভুল বুঝতে পেরে শ্বশুড়ীমা ,

ঘরে নিয়ে গেল তাদের বৌমা।

---------********----------

Thanks for supporting me. Please comment share and follow me.



About the life of a needy girl.

4 views0 comments

Recent Posts

See All

My Pets

মিঠাই রাণী মনোরঞ্জন দাস মিঠাই রাণী , মিঠাই রাণী , কোথায় তুমি আছো ? আমি আছি তিমায়ের কাছে। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কতো তুমি ভালো। আমি ভালো তোমার মতো , তুমি যেমন ভালো। মিঠাই রাণী ,মিঠাই রাণী , কোথায়

Raas Purnima

রাস পূর্ণিমা মনোরঞ্জন দাস আজ রাস পূর্ণিমা , খুব সুন্দর সাজে সেজেছে চন্দ্রীমা। অপরূপ রূপের অধিকারী , তার তুলনা একটু না হয় করি। গতকাল আমি অনেক ভেবেছি , একবার এটা তো একবার ওটা করেছি। আসলে জীবনে আমরা যা

Bengal Tiger

দাদা মনোরঞ্জন দাস বাংলার দাদার প্রথম পায়ের ছোঁয়া পেয়েছিল , কলকাতার বেহালা ,সেখানেই তার জন্ম হয়েছিল। ৮ই জুলাই ১৯৭২ সালে তার জন্ম হয়েছিল , মাতা নিরূপা গাঙ্গুলীর কোল আলো করেছিল। পিতা চন্ডীদাস গাঙ্গুল

Comentários


bottom of page